নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্যোগকবলিত মানুষের মর্যাদার সাথে মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং মানবিক কাজে নিয়োজিত সংস্থা ও কর্মীদের সেবার মান ও জবাবদিহিতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা আবশ্যক। স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকে (Sphere Handbook) মানবিক সনদ, সুরক্ষা নীতি, কোর হিউম্যানিটেরিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (CHS) এর আলোকে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি এবং আশ্রয় ও বসতির ন্যূনতম মানদণ্ডসমূহকে একত্রিত করা হয়েছে। এর বাংলা সংস্করণ প্রকাশের ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারীরা এই মানদণ্ডগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে ও প্রয়োগ করতে পারবেন, যা মানবিক সেবার মান, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকায় স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ, কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং দুর্যোগ ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ মূলত দেশে স্ফিয়ার মানদণ্ড প্রচার এবং মানবিক কাজের ক্ষেত্রে মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজমিয়াক, বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর এর উপ-প্রতিনিধি জুলেয়েট মুরে কিসোনি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. ইকবাল উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্য সচিব গওহার নঈম ওয়াহরা।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেনেভাস্থ স্ফিয়ার সচিবালয়ের জুনায়রা শামস, এশিয়ার আঞ্চলিক স্ফিয়ার ফোকাল তুবা সিদ্দিকী, এশিয়ান ডিসাস্টার রিডাকশন অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্কের চেয়ারপার্সন তাকেশি কোমিয়ানো, হেলথ ক্লাস্টারের মো. জাহিদ রহিম, ফুড সিকিউরিটি ক্লাস্টারের মাইনুল হোসেন রনি, কোস্ট ফাউন্ডেশনের রেজাউল করিম চৌধুরী, আইএফআরসি এর মেহেদী হাসান শিশির, কেয়ার বাংলাদেশের মঈন উদ্দিন আহমেদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কবিতা বোস, এনজিও প্ল্যাটফর্ম কক্সবাজারের তাহমিনা হক, এসডিএস এর রাবেয়া বেগম, ইএসডিও এর মশিউর রহমান, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের শামসুজ্জামান, আইওএম এর সৈয়দ শাহরিয়ার শাবাব, ইনসাইটস এর সুমন আহসানুল ইসলাম, এডাব এর এ কে এম জসীম উদ্দীন, জাগো নারী এর শিউলী শর্মা, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ এম এ হালিম, শশাঙ্ক সাদী, দিপু মাহমুদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের অন্তরা তিথি, কনসার্ন বাংলাদেশের কৌশিক আহমেদ, ফ্রেন্ডশিপের শরীফ আল কামাল এবং নাহাব এর রওশন আলী।
রেজওয়ানুর রহমান উল্লেখ করেন যে, মানবিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন করা এবং স্ফিয়ার হ্যান্ডবুক অনুবাদ করা বাংলাদেশের জন্যও দারুণ এক অগ্রগতি। সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরে এই মানদণ্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন কাগজ থেকে এগুলো বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। অন্যদিকে জুলেয়েট মুরে কিসোনি মন্তব্য করেন, এই হ্যান্ডবুকটির স্থানীয়করণ ও চর্চা নিশ্চিত করবে মানবিক কাজে আমাদের জবাবদিহিতা।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের কার্যক্রম যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে বজায় থাকে তা নিশ্চিত করতে আমরা এই হ্যান্ডবুকটি ব্যবহার করব। জুনায়রা শামস মানদণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। তুবা সিদ্দিকী স্ফিয়ার মানদণ্ডের স্থানীয়করণের পক্ষে প্রচারণার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাকেশি কোমিয়ানো বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের তাদের অধিকার ও প্রাপ্য সম্পর্কে জানানো উচিত, যেন তারা আমাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। কবিতা বোস সারাদেশে স্ফিয়ার মানদণ্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এজন্য দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাহমিনা হক রোহিঙ্গা রেসপন্সে এই মানদণ্ডের ব্যাপক প্রয়োগের ওপর জোর দেন।



