রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যা সরকারের মালিকানাধীন এবং পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মধ্যে সেবা প্রদানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি এগিয়ে। দেশে-বিদেশে পুরোপুরি অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন স্মার্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে ব্যাংকটিতে। ব্যাংকের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ‘সকলের সংবাদ’ সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্থনৈতিক প্রতিবেদক জামান আহমেদ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় সোনালী ব্যাংক নিজেকে কীভাবে দেখছে?
মো. শওকত আলী খান : সোনালী ব্যাংক নিজেকে শুধু একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। রাষ্ট্র ও জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকটি নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা, উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি।
প্রশ্ন: আগামী তিন বছরে সোনালী ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার কীÑলাভ বাড়ানো, খেলাপি ঋণ কমানো, গ্রাহকসেবার উন্নয়ন, নাকি পরিচালন ব্যবস্থার সংস্কার?
মো. শওকত আলী খান : আপনি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন লাভজনকতা বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ হ্রাস, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা সংস্কার, এসবই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং ব্যাংকের টেকসই উন্নয়নের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগামী তিন বছরে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সুশাসন আরও শক্তিশালী করা। কারণ, একটি সুস্থ ঋণপোর্টফোলিওই লাভজনকতা বৃদ্ধি ও উন্নত গ্রাহকসেবার ভিত্তি তৈরি করে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১৬ শতাংশ; আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা ১২-১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিটে) নিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এভাবেই সোনালী ব্যাংক একটি আরও শক্তিশালী, আস্থাশীল ও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
প্রশ্ন: ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এখন জাতীয় অর্থনীতির বড় ঝুঁকি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোথায়?
মো. শওকত আলী খান : দেশে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার নিঃসন্দেহে জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও আমাদের সামনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমি মনে করি, ঋণ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ঋণ অনুমোদনের পর পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী তদারকির ঘাটতি। ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন, ঝুঁকির আগাম শনাক্তকরণ এবং দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রশ্ন: ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ এড়াতে বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কী ধরনের সুরক্ষা রয়েছে?
মো. শওকত আলী খান : বর্তমানে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চাপ নেই। ঋণ অনুমোদনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নির্ধারিত নীতিমালা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য আইন-কানুনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মতামত, বোর্ডের নিরীক্ষা ও তদারকি ব্যবস্থা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের লিখিত নথিভুক্তিকরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। ফলে বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পেশাগতভাবে স্বাধীন থেকে স্বচ্ছ উপায়ে ঋণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
প্রশ্ন: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বোর্ড, ঋণ কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটিকে আরও পেশাদার ও স্বাধীন করার প্রয়োজন আছে কি?
মো. শওকত আলী খান : রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে বোর্ড, ক্রেডিট কমিটি ও অডিট কমিটিসহ সকল বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধির মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। কর্মকর্তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পেশাগতভাবে স্বাধীন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন। তবে ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান জটিলতা ও ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এসব প্রতিষ্ঠানের পেশাগত সক্ষমতা ও স্বাধীনতা ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী করা সবসময়ই কাম্য। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
প্রশ্ন: মুনাফার বড় অংশ যদি সরকারি সিকিউরিটিজ বা বিনিয়োগ আয় থেকে আসে, তাহলে আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের মতো মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে সোনালী ব্যাংকের প্রকৃত শক্তি কতটা?
মো. শওকত আলী খান : আমাদের মুনাফার একটি অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে আসে, যা একটি স্বাভাবিক ও নিরাপদ আয় উৎস। তবে সোনালী ব্যাংকের প্রকৃত শক্তি তার মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমেই নিহিত। দেশের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে আমাদের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী আমানতভিত্তি এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। আমরা কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রপ্তানি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে আমাদের লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়; বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। এই সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই সোনালী ব্যাংকের প্রকৃত শক্তি ও সাফল্য প্রতিফলিত হয়।
প্রশ্ন: এসএমই, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণ পাওয়া এখনো কঠিন। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান সহজে ঋণ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মো. শওকত আলী খান : ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে চাই। কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই), কৃষি খাতে ঋণ রয়েছে। এ খাতে আরো ঋণ বাড়ানো হবে। তাই যারা ভালো ব্যবসা করতে চাইবে, তাদেরকে আমরা ঋণ দিবে। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে বিনিয়োগ সুবিধার আওতায় আনতে ঋণ দিচ্ছি। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রাণ। বৃহৎ বিনিয়োগের চেয়ে আমরা ছোট বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে রিটেইলার, এসএমই, কৃষি, গবাদি পশু, মসলা ও মসলাজাতীয় পণ্য, ফলজসহ বেশকিছু আইটেমের ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: ব্যাংক খাতে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের অবস্থান কোথায়?
মো. শওকত আলী খান : বিগত ১৬ বছরে আর্থিক খাতে নজিরবিহীন অপশাসনের মাধ্যমে এই খাতকে বিপর্যস্ত করে তোলা হয়েছে। ব্যাপক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে এবং সেগুলো বারবার পুনঃতফসিল করে প্রকৃত অবস্থা আড়াল করা হয়েছে। তাই তখন খেলাপি ঋণ কম দেখানো হতো। এখন সেগুলো যাছাই-বাচাই করতে গিয়ে ঋণের আসল চেহারা বের হয়ে আসছে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিল। এখন কমতে শুরু করেছে। রিকভারির ক্ষেত্রে আমারা বিভিন্ন ধরনের কমিটি করেছি। এছাড়া যতগুলো টুলস আছে যথাযথ নিয়ম মেনেই তা করছি। এক কথায় বলা যায় আমার ব্যাংকের বর্তমান টিমের একাগ্রতা আর শ্রমই সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমার পুরো টিমকে উজ্জীবিত করতে পেরেছি। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান অন্য সব ব্যাংকের চেয়ে অনেকগুণ মজবুত। আমরা ঋণ দেয়ার আগে গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগ দিয়ে থাকি। তাই অন্য সব ব্যাংকের চেয়ে আমাদের বিনিয়োগ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। ফলে আমাদের খেলাপির পরিমাণ অনেক কম। সার্বিকভাবে বলতে গেলে সোনালী ব্যাংকে কোনো সংকটে নেই। আমানতের পরিমাণ ২ লাখ টাকার উপরে। আমরা আমানদের সঠিক ব্যবহার করতে চাই।
প্রশ্ন: নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?
মো. শওকত আলী খান : ক্যাশহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একই কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা সহজে ও নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন। এর ফলে নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে, লেনদেনের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং অর্থ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপচয়ও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে, কর ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক সবার জন্য আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। তাই আমরা ‘বাংলা কিউআর’-এর বিস্তার ও কার্যকর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রশ্ন: ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে সোনালী ব্যাংক কতটা এগিয়েছে? গ্রাহকের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ রয়েছে?
মো. শওকত আলী খান : আমরা ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকে রূপান্তর করেছি। সোনালী ব্যাংক সবার আগে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বন্ধপরিকর। শতভাগ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সোনালী ব্যাংকে। আমাদের ১২৩৫টি শাখা এখন পুরোপুরি অনলাইন সেবা দিচ্ছে। এছাড়া বিদেশে ২টি শাখা রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের রয়েছে সোনালী ই-ওয়ালেট ও ই-সেবা অ্যাপ। সোনালী ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই ব্যাংকিং সেবা নিন দিন-রাত যেকোনো সময়, দেশ ও বিদেশ হতে। এটিএম বুথ, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট মাধ্যমে অত্যন্ত সুনাম ও আস্থার সাথে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে নামে একটা অ্যাপস রয়েছে। সোনালী ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে। ব্যাংকের এক হিসাব হতে অন্য হিসাবে টাকা স্থানান্তর, সোনালী ব্যাংকের হিসাব হতে অন্য যেকোনো ব্যাংকের হিসাবে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর, মোবাইলে ফোনে ব্যালেন্স রিচার্জ, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক ও স্টেটমেন্ট চেক করা, বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ ও নগদ মোবাইল সার্ভিসেও টাকা জমা করা যায়। এ ছাড়া ই-ওয়ালেট ব্যবহারের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে যে কোনো শাখা হতে চেক ও স্বাক্ষর ছাড়াই বর্তমানে টাকা উত্তোলনের যুগান্তকারী সেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি। এছাড়া ই-ওয়ালেট মাধ্যমে ২ হাজারের প্রতিষ্ঠানের মতো বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিধ ফি নিরাপদে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া যায়। সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে যেকোন ধরনের কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইত্যাদি পেমেন্ট পদ্ধতিকে সাপোর্ট করে। এটি সাধারনত বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পেমেন্ট গ্রহণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্লাটফরম। বৈদেশিক রেমিটেন্স সেবা প্রদানের জন্য দেশের বাহিরে দুটি শাখা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রেমিট্যান্স কোম্পানীর সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে, এদের মধ্যে ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি, রিয়া, ট্রান্সফাস্ট, ন্যাশনাল মানি।
সকলের সংবাদ’র পাঠকদের পক্ষ থেকে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ



