নিজস্ব প্রতিবেদক: পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লংঘনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ জনগণ, সংশ্লিষ্ট সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিকট তুলে ধরাসহ এসকল ঘটনাপ্রবাহের নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুষ্পষ্ট দাবীনামা নিয়ে কাজ করে আসছে।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লংঘনের কিছু ঘটনাপ্রবাহ পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক অধিকার তথা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের বিধানকে লংঘন করে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে সম্মানহানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে চাকুরীচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, মবসন্ত্রাশের মাধ্যমে সম্মানহানি, কোন ধরনের তথ্য প্রমান ছাড়াই সাংবাদিক তথা গণমাধ্যমকর্মীদের গ্রেপ্তার, চাকুরীচ্যুতি, নির্যাতন, মবসন্ত্রাশ, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের চাকুরীচ্যুতি, গ্রেপ্তারসহ নানাবিধ হয়রানি, আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে আইনপেশায় অবদান রাখায় বাধাপ্রদান, গ্রেপ্তার, শিল্পী সাহিত্যিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমুলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সকল পেশাজীবীর মাঝে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে যা মানবাধিকারের চরম লংঘন বলে মনে করে।
পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এধরনের কর্মকান্ডকে মানবাধিকারের প্রতি হুমকীস্বরুপ বলে মনে করে। এছাড়াও বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা জগতের অন্যতম দিকপাল খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশেষ মেধাসম্পন্ন ও রোগীবান্ধব ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলা এরকম একজন বিশেষ মেধাসম্পন্ন চিকিৎসকের যথাযথ সম্মান ও মযাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ বিশিষ্ট চিকিৎসকের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ বাতিল মানবাধিকারের প্রতি সুষ্পষ্ট হস্তক্ষেপ।
পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ আরও মনে করে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) এ বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুযায়ী, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। উপরন্তু অনুচ্ছেদ ১৮ এ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও পুষ্টির মান বৃদ্ধিকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি ড. ইউনুছের অন্তর্বর্তী সরকার প্রচলিত নিয়মে হামের টিকা আমদানী না করে সংবিধান স্বীকৃত চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যহত করেছে যার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭০০-এরও অধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে যাদের আজীবন নানাবিধ জটিলতা নিয়ে বাঁচতে হতে পারে। এটি মানবাধিকার লংঘনের একটি সুষ্পষ্ট চিত্র বহণ করে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বিগত ২২ জুন তুরাগ থানা এলাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগগঠনের ৭ জন নেতাকর্মী নিখোঁজের দাবী প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেস বিবৃতি দিয়েছে যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এই ধরণের চরম মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।
এছাড়াও সারাদেশে মত ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা লংঘন করে অবৈধ ইউনুছ সরকার মব কালচারের নামে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং প্রতিনিয়ত বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। বর্তমান সরকারের সময়েও এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে যা খুবই উদ্বেগজনক। এ ধরণের ঘটনাপ্রবাহ যেকোন ধরণের মানবাধিকারের সুষ্পষ্ট লংঘন।
পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ আশা প্রকাশ করে যে, বর্তমান সরকার মানবাধিকার লংঘনের উপরিল্লিখিত ঘটনাসমূহের যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



