ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের ‘বিশ্বাস ভবন’ নামের একটি বসতবাড়ি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সুনিল বিশ্বাস (কুটি)। বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বসতবাড়ি দখল, মালামাল ও ধর্মীয় মূর্তি ফেরত না পাওয়া এবং জমি-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে সুনিল বিশ্বাস বলেন, নাচনমহল গ্রামের ‘বিশ্বাস ভবন’ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ৪২ বছর ধরে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। বাড়ির সামনের অংশে দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাড়িটি কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা নয়; এটি তাঁর বসতবাড়ি।
সুনিলের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় জোরপূর্বক তাঁর বসতবাড়ি দখল করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নলছিটি থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনি বাড়িটি ফিরে পান। তবে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল এবং ঠাকুরের আসনে থাকা রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি এখনো ফেরত পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুনিল বিশ্বাস উজ্জল নারায়ণ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও করেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির সঙ্গে উজ্জল নারায়ণ চ্যাটার্জি জড়িত। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সুনিল আরও দাবি করেন, নাচনমহল ও রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো চৌকিদারের স্বাক্ষর তাঁর কথিত ওয়ারিশ সনদে নেই। তাঁর অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সনদ তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুনিল বিশ্বাস বলেন, গত ৩১ আগস্ট উজ্জল নারায়ণ চ্যাটার্জি রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সুনিল ওই অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি ঝালকাঠির বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির সিআর নম্বর ৪১৩/২০২৬ (নলঃ)। মামলায় আয়নাল হক, মনির মুন্সি, মস্তফা হাং ও দুলাল তালুকদারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
সুনিল বিশ্বাসের দাবি, উজ্জল নারায়ণ চ্যাটার্জি ও আয়নাল হকের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের কারণে তিনি ছাড়াও এলাকার আরও অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি মাঠপর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, বসতভিটা ফিরে পেলেও তিনি এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হুমকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে উজ্জল নারায়ণ চ্যাটার্জি ও আয়নাল হকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



