প্রতিদিনের লেনদেনে বহুল ব্যবহৃত মোবাইল আর্থিক সেবাকে নিরাপদ, সুরক্ষিত রাখতে এবং অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এর ব্যবহার প্রতিরোধে ধারাবাহিক কর্মশালার অংশ হিসেবে এবার রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো “মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অপব্যবহার তদন্ত ও প্রতিরোধ” শীর্ষক কর্মশালা। রংপুর জেলা পুলিশ এবং বিকাশ-এর উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স হল রুমে দিনব্যাপী এই কর্মশালায় জেলা পুলিশের ৪৫ জন তদন্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অপরাধী চক্র সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য কীভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের শনাক্ত করা ও আইনের আওতায় আনা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয় এই কর্মশালায়।
এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত বিকাশ-এর নিয়মিত এই আয়োজনে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪,৫০০ তদন্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছেন।
উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। বিকাশ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মেজর এ কে এম মনিরুল করিম (অব.)।
প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্রাহকের হারানো টাকা অনুসন্ধানের কৌশল, ডিজিটাল লেনদেন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের উপায়, এবং তদন্তের প্রয়োজনে বিকাশ-এর কর্মকর্তাদের সাথে কীভাবে তদন্ত কর্মকর্তারা সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন – এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এই কর্মশালায়। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল অপরাধে ব্যবহৃত আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এমএফএস লেনদেনের তথ্য কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া, কোনো অপরাধমূলক ঘটনা সংঘটিত হওয়াকালীন তৎক্ষণাৎ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, তা নিয়েও এই কর্মশালাতে আলোকপাত করা হয়।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল লেনদেনে প্রতিটি লেনদেন মনিটর ও ট্র্যাক করা যায়। ফলে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই সহ সকল তদন্ত কর্মকর্তাদের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে বিকাশ ২০১৭ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে “মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর অপব্যবহার তদন্ত ও প্রতিরোধ” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে আসছে।



