এনআরবি ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি। নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (এনআরবিবিপিএলসি)। ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু। ব্যাংকটি দেশের চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আর্থিক সংযোগ জোরদারে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতির পরিচয় দিয়েছে। এনআরবি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন তারেক রিয়াজ খান। ব্যাংকের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ‘সকলের সংবাদ’ সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আরিফ হোসেন।
প্রশ্ন : বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এনআরবি ব্যাংকের সার্বিক পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
উত্তর : এটি সত্য যে গত প্রায় দেড় দশকে দেশের ব্যাংকিং খাত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঋণ অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতির মতো বিষয়গুলো পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে প্রতিটি ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের সব ব্যাংকের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ধীরগতির প্রভাব ব্যাংকিং খাতেও পড়েছে। এই বাস্তবতায় এনআরবি ব্যাংক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং গ্রাহকসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা আমানত সংগ্রহ, ঋণের গুণগত মান, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। একই সঙ্গে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী রাখা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছি। চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এনআরবি ব্যাংকের সার্বিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক এবং আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনেও ঝুঁকি-সচেতন ব্যাংকিং, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
প্রশ্ন : করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কীভাবে কাজ করছে?
উত্তর : সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনাই ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এনআরবি ব্যাংক সেই নীতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে। এনআরবি ব্যাংক শুরু থেকেই সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমরা কঠোর ক্রেডিট মূল্যায়ন, যথাযথ জামানত যাচাই, গ্রাহকের নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করি। একই সঙ্গে বোর্ড, অডিট কমিটি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হয়েছে। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত ঋণ পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছি। দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও আস্থাভাজন ব্যাংক হিসেবে গড়ে ওঠা।
প্রশ্ন : বোর্ডে ব্যাংকের পূরণ মালিকরা আবার ফিরে আসছে, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
উত্তর : বোর্ডে অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ও পূর্ববর্তী শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসা ইতিবাচক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের খেয়াল রাখতে হবে, কোনো দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি যেন পরিচালনা পর্ষদে আসতে না পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং আইনি কাঠামোর কাজ করার মত ব্যক্তিকে বোর্ডে জায়গা দিতে হবে। একটি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব এবং পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও কার্যকর বোর্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের সুশাসন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আমরা বোর্ডের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ব্যাংকের স্বার্থ, আমানতকারীদের নিরাপত্তা, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করেই নেওয়া হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের অগ্রাধিকার। তাই ব্যক্তি নয়, আমরা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রশ্ন : এনআরবি ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণের হার কত? এটি কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
উত্তর : এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, এনআরবি ব্যাংকের সফল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত পদক্ষেপ, নিবিড় তদারকি এবং দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে ইতিবাচক ফল অর্জন হয়েছে। এই সাফল্য শুধু ব্যাংকের আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেনি, বরং ভবিষ্যতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নত সেবার জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তিও তৈরি করেছে। ব্যাংকটির এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার এবং অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে। ২০২৫ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ যা এখন ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। যা ব্যাংকটির দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কার্যকর পুনরুদ্ধার কৌশল এবং সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রশ্ন: নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর : ক্যাশহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমরা এরই মধ্যে ৬ হাজার ২৫০ মার্চেন্ডাইজার তালিকাভুক্ত করেছি। পান ও সিগারেটের দোকান থেকে শুরু করে শপিংপলগুলোতে ‘বাংলা কিউআর’ মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ব্যাপক কাজ চলছে। কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা সহজে ও নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন। এর ফলে নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে, লেনদেনের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং অর্থ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপচয়ও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে, কর ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক সবার জন্য আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। তাই আমরা ‘বাংলা কিউআর’-এর বিস্তার ও কার্যকর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রশ্ন: নতুন গ্রাহকরা আপনার ব্যাংকে আসবে কেন?
উত্তর : এনআরবি ব্যাংক তার পণ্য ও সেবার গুণমানের বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ। ব্যাংকে একদল মেধাবী কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নতুন উদ্ভাবনী পণ্য এবং সেবা দিতে সক্ষম। ব্যাংকে অনুপ্রাণিত এবং উদ্যোমী কর্মকর্তারা রয়েছেন, যারা নতুন ব্যবসা অর্জন করতে সক্ষম। সর্বোপরি ব্যাংকের দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ একটি ভাল কর্পোরেট সুশাসন বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমাদের শক্তিশালী মূলধন ও লিকুইডিটি’র পর্যাপ্ততা আছে, যা গ্রাহক পর্যায়ে আমাদের ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি সাসটেইনিবিলিটি’র বিষয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। গ্রাহকেরদের জন্য ট্রেড অপারেশন অটোমেশন করা, কর্পোরেট ব্যাংকিং-এ নতুন নতুন সেবার সংযোজন করা, ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন নিরাপদ ও নির্ভুল সেবার নিশ্চয়তার বিভিন্ন ধরনের সেবা চালু রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভরশীল আধুনিক ব্যাংকে রূপান্তরিত একটি ব্যাংক এনআরবি। তাই আস্থার জায়গা থেকেই আসছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক ব্যাংকই গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খেয়েছে। অনেক ব্যাংক গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারেনি। সেখানে এনআরবি ব্যাংকের গ্রাহকের যতো টাকারই চেক হোক না কেন, কোনো গ্রাহকেই টাকা না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে ব্যাংকটির আমানত, হিসাবধারীর সংখ্যা, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও খেলাপি ঋণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। সঠিক নেতৃত্ব, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এনআরবি ব্যাংক আগামী দিনে শুধু চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যেই নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও একটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে পরিণত হবে।
প্রশ্ন: নতুন ব্যাংক হিসেবে এ ব্যাংকের অর্জনগুলো কী কী?
উত্তর : এই ব্যাংকের অনেক অর্জন রয়েছে। এনআরবি ব্যাংক বাংলাদেশের চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি। শতভাগ প্রবাসী মালিকানাধীন এনআরবি ব্যাংক। বর্তমানে এই ব্যাংকটির আমানতর রয়েছে ১০ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ রয়েছে ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রায় আড়াই লাখ গ্রাহক রয়েছে। প্রতিমাসে ২৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসছে।
প্রশ্ন : প্রান্তিক মানুষের জন্য ক্ষুদ ঋণ দিতে অনেক ব্যাংক তেমন আগ্রহ দেখায় না সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাংকের অবস্থা কি?
উত্তর : কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ রাড়ানো হবে। বর্তমানে ৭০ শতাংশ কর্পোরটে ঋণ রয়েছে। সেটাকে কমিয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে আসবো। সিএমএসএমই খাতে ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ নিয়ে আসবো ঋণে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবদান অনস্বীকার্য। সার্বিক গুরুত্ব ও ঋণ ঝুঁকি বিবেচনায়, এনআরবি ব্যাংক ছোট ছোট উদ্যোক্তাদেরকে অর্থায়নে বেশ উদ্যোগী ভুমিকায় রয়েছে। আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে প্রচলিত নিয়মাচারের আলোকে ঋণদানে সচেষ্ট আছি। এছাড়া ‘গ্রামীণ গৃহঋণ’ নামে একটা ঋণ চালু রয়েছে। এখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যক্তিরা ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করতে পারছে। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখানে থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করছে অনেকেই। ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে গ্রাহকরা। গ্রামে অঞ্চলে এই টাকা দিয়ে খুব সুন্দর বাড়ি করতে পারে। এছাড়া ভালো ব্যবসায়ীদের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কর্পোরেট ঋণের পাশপাশি সিএমএসসিএমই এবং সুরক্ষিত রিটেল ঋণ যেমন, হোম লোন, কার লোন, গ্রামীণ গৃহ ঋণ উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রশ্ন: ব্যাংকের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর : সরকার ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য কাজ করছি। এছাড়া এ বছরের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসার একটি লক্ষ্য রয়েছে। আমাদের ব্যাংকিং সেবাকে ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড’-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের দিকে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে মানুষের কাছে বেশি পৌঁছানো যায়। বর্তমানে ডিজিটাল প্লাটফর্ম মানুষ বেশি পছন্দ করে। কারণ ঘরে বসে এখন মানুষ ব্যাংকিং করতে বেশি পছন্দ করে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরাসরি এতো গ্রাহকের কাছে যাওয়া সম্ভব না। তাই এখন ডিজিটাল উপরে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে যার যত ডিজিটাল সক্ষমতা বেশি, সেই ব্যাংকই ততো বেশি এগিয়ে যাবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছানো সম্ভব। যা শাখা ও উপ-শাখা দিয়ে সম্ভব না। তাছাড়া অনেকটা খরচও কমানো সম্ভব। ‘এনআরবি ক্লিক’ নামে একটা অ্যাপস রয়েছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যাংকিংয়ের সকল কাজ করা যাবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও আস্থাভাজন ব্যাংক হিসেবে দাঁড় করানোই লক্ষ্য।



