শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসজেআইবিপিএলসি) দেশের শরিয়াহভিত্তিক একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকিং কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর অধীনে নিবন্ধিত এই ব্যাংকটি ২০০১ সালের ১০ মে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ ভিতরে রয়েছে। আর্থিক সূচকে একটি মজবুত ব্যাংক হিসেবে যার অবস্থান। ব্যাংকটির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ-এর সাথে সার্বিক বিষয়ে নিয়ে কথা বলেছেন ‘সকলের সংবাদ’-এর অর্থনৈতিক প্রতিবেদক রমজান আলী।
সকলের সংবাদ: বর্তমান সংকটে কীভাবে ব্যাংকিং করছেন ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কারণে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব কারণে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, বেসরকারি খাতে ব্যবসার মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য, যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিতার কারণে অনেক ব্যাংকই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জময় পরিস্থিতির মধ্যেও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি অব্যাহত সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অন্যসব ব্যাংকের মতো ব্যাংকিং করে না। একটু ভিন্নভাবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ব্যাংকিং করে। যার ফলে অন্যসব ব্যাংকের চেয়ে অনেকগুণ মজবুত হচ্ছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। আমরা ঋণ দেয়ার আগে গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করি। তারপর গ্রাহককে ঋণ দিয়ে থাকি। তাই অন্যসব ব্যাংকের চেয়ে আমাদের ঝুঁকি কম থাকে। আমরা ঝুঁকিটাকে আগে মোকাবেলা করি। ফলে আমাদের খেলাপি ঋণের মাত্র অনেক কম। এছাড়া আমরা আমানত গ্রহণ করি ৮ শতাংশে। অন্যসব ব্যাংক সেখানে ১০ শতাংশের উপরে আমানতের মুনাফা দিয়ে থাকে। যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের কম মুনাফায় ঋণ দিতে পারি।
সকলের সংবাদ: ব্যাংকের সেবার পরিধি সম্পর্কে জানতে চাই ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: ২৫ বছরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেশব্যাপী ১৪২টি শাখা, ৫টি উপ-শাখা, ১৫২টি এটিএম বুথ, ১৩০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং প্রাইয়োরেটি সেন্টারের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনাম ও আস্থার সাথে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছি। এছাড়া ঘরে বসে অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যাংকের সকল ধরণের লেনদন করতে পারছে গ্রাহকরা। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী শরীয়া’র ওয়াকালাহ্ ধারণা অনুসরণ করে চালু করেছে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড। আমাদের রয়েছে টোয়েন্টি ফোর আওয়ার এটিএম সার্ভিস ও রিয়েল টাইম অন-লাইন ব্যাংকিং। আমাদের রয়েছে এসএমএস পুশ-পুল সার্ভিস, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক তাদের লেনদেনের তথ্য ও ব্যালেন্স জানতে পারেন। বৈদেশিক রেমিটেন্স সেবা প্রদানের জন্য বিশ্বের বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রেমিট্যান্স কোম্পানীর সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে, এদের মধ্যে ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি, রিয়া, ট্রান্সফাস্ট, ব্র্যাক স্যাজন, ন্যাশনাল মানি ও আল জামান-সহ আরো কিছু উল্লেখযোগ্য মাধ্যমে প্রবাসীরা নিরাপদ ও দ্রুততার সাথে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে পারেন, যা তাদের আত্মীয়-স্বজন আমাদের ব্যাংকের যে কোন শাখা হতে উত্তোলন করতে পারেন। তাছাড়া আমাদের সকল শাখায় রয়েছে অন-লাইন ভিত্তিক ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট করার সুবিধা। একজন গ্রাহক তিতাস গ্যাস, পিডিবি, পল্লী বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ডিপিসিডি, ডেসকো এবং বিটিসিএল এর সকল ধরণের ফি ও ট্যাক্স শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের যেকোন শাখার মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। ব্যবসায়ীদের জন্য শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের সকল শাখায় রয়েছে ই-জিপি সার্ভিস। যার মাধ্যমে সকল প্রকার সরকারী টেন্ডার অনলাইনে দাখিল করা যায়। এই ই-জিপি’র সাথে সংশ্লিষ্ট পে-অর্ডারের জন্য কোন প্রকার চার্জ আরোপ করা হয় না। শুধু তাই নয়, ই-জিপি সার্ভিসের সাথে প্রয়োজনীয় আর্নেস্ট মানি সংস্থানের জন্য অত্যন্ত সহজ শর্তে আর্নেস্ট মানি অথবা পে-অর্ডার ফাইন্যান্স স্কীম, যার মাধ্যমে দরদাতাগণ সহজেই টেন্ডার-ডকুমেন্ট দাখিল করতে পারে। আমরা আমাদের ব্যাংকিং সেবাকে Global Standard-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান, শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠান, উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি, পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ব্যাংকিং সেবাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিস্তৃত করতে চাই, যাতে করে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ব্যাংকিং-সেবা-প্রাপ্তি প্রতিটি ব্যক্তির আরেকটি মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাহলেই সর্বত্র একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে।
সকলের সংবাদ: গত কয়েক বছর ধরে সুশাসনের অভাবে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাটাই নাজুক হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে আপনি কী কী করা দরকার মনে করেন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সুশাসন চাইলে সবার আগে ব্যাংকের পর্ষদকে এগিয়ে আসতে হবে। পর্ষদ যদি নিজেরাই সুশাসন মেনে চলে, তাহলে ভেতরের কেউ অনিয়ম করার সাহসই পাবে না। এটা শুধু দায়িত্ব নয়, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই জরুরি।
সকলের সংবাদ: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে শরিয়াহ পর্ষদ আসলে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে? বাস্তবে কেমন অভিজ্ঞতা?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকেরগুলোতে দুটি পর্ষদ রয়েছে। একটি পর্ষদ হচ্ছে ব্যাংকের মালিকদের পর্ষদ। আর একটি হচ্ছে, ‘শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদ’। যা সরাসরি মালিকরা থাকে না। তাই দেখা গেছে, অনেকই ব্যাংকই ব্যাংকের পর্ষদ যে সিন্ধান্ত নেয়, সেটাই ‘শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদ’ নিতে হচ্ছে। সেখানে শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদের তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়না। তাই এমন আইন থাকার দরকার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে যে, মালিকদের পর্ষদ ও ‘শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদ’ একই শক্তিশালী হবে। এখানে দুই পর্ষদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এতে একদিকে ব্যাংকের সুশাসন অন্যদিকে ‘শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তাই এ দুটি পর্ষদই আইনের কাঠামতে একই শক্তিশালী হওয়া উচিত।
সকলের সংবাদ: বর্তমান পর্ষদ কিভাবে সহযোগিতা করছে আপনাকে ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বর্তমানে ব্যাংকের ভালো ও নির্ভরযোগ্য বোর্ড অফ ডিরেক্টরস রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রশংসিত। বিজ্ঞ পর্ষদ তাঁদের সুচিন্তিত পলিসি ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছেন। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা রয়েছে। যার ফলে বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ ভিতরে রয়েছে।
সকলের সংবাদ: আরো সেবা বাড়ানোর জন্য কোনো উদ্যোগ দিচ্ছেন কি না ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমরা ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে ঋণের আবেদনসহ সকল প্রকার লেনদেন করতে পারবে। ডিজিটাল লেনদেনের পাশপাশি নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে; যেন প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভার ডাউন হওয়ার ঝুঁকি সর্বনিম্ন থাকে। পাশাপাশি, গ্রাহকদের সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দ্বিধা বা শঙ্কা না থাকে। প্রযুক্তি যত সহজ ও সাবলীল হবে, সাধারণ মানুষ তত বেশি নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে আগ্রহী হবে। তাই ব্যাংকিং সেবায় ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি।
সকলের সংবাদ: ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উৎকর্ষে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ায় ক্রেডিট কার্ড এখন ক্যাশলেস অর্থনীতির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছি। মোবাইল ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক সেবার সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের এই সমন্বয় ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়েই জোর দিচ্ছি বেশি।
সকলের সংবাদ: ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কাদের ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত করতে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে ঋণ সুবিধার আওতায় আনতে কাজ করছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রাণ। তাদেরকে সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ি আমরা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বৃহৎ ঋণের চেয়ে আমরা ছোট ঋণে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রিটেইলার, এসএমই, কৃষি, গবাদি পশু, মসলা ও মসলাজাতীয় পণ্য, ফলজসহ বেশকিছু আইটেমের ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখা প্রধানকে গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত গ্রাহকরা যেন ঋণ পেতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
সকলের সংবাদ: সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কতোটুকু কাজ করছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে কিছুসংখ্যক খ্যাতনামা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। দেশের সর্বশ্রেণির জনসাধারণের নিকট উন্নত ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি নিম্ন্নবিত্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান-সহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে এ ব্যাংক অংশগ্রহণ করে আসছে। তাছাড়া সমাজের দুঃস্থ, অসহায় ও সম্বলহীন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, মেধাবী ও গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান-সহ নানাবিধ জনহিতকর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অব্যাহতভাবে মানব কল্যাণে সাধ্যমত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সকলের সংবাদ: ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার কথা জানতে চাই?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বর্তমানে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা ও বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার টাকা ও রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এই ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৩ জন। ইমার্জিং ক্রেডিট লিমিটেড (ইসিআরএল) এর রেটিং এ শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং Long Term-G AA+ এবং Short Term-G ST-2-। এই রেটিং দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর মধ্যে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অন্যতম এবং এই ব্যাংকে গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ দুটো-ই অধিকতর নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। গ্রাহকদেরকে উৎকৃষ্ট ও আন্তরিক সেবা প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অর্জন করেছে বেশ কয়েকটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি/পুরস্কার।
সকলের সংবাদ: ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সেবা বাড়ানোর জন্য শাখার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি। যাতে ঘওে বসে সবাই ব্যাংকিং সেবা পেতে পাবে। এছাড়া রেমিট্যান্স গ্রাহকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সিএমএসএমই খাতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই খাতের। খাতটি দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য বিমোচনই সিএমএসএমই খাতের মূল লক্ষ্য। দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান এ খাতের। তাই আমরাও কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সিএমএসএসইতে ঋণের পরিমাণ বাড়াবো। এছাড়া আমাদের পরিকল্পনা হলো, ওভারডিও, ক্লাসিফায়েড ও অবলোপনকৃত বিনিয়োগ থেকে আদায়ের কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা। চলমান মামলাগুলো গতিশীল করা, স্থগিত হয়ে থাকা মামলাগুলোকে পুনরায় সচল করা।



